আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
মিয়ানমারে পাচারের প্রাক্কালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৪০১ কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা সারের আনুমানিক সিজারমূল্য ৫ লাখ ১ হাজার ৮১০ টাকা।
বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সার পাচার রোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, বাইশফাঁড়ী, চাকঢালা ও রেজুপাড়া সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
৩৪ বিজিবির অধীন বিভিন্ন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) থেকে পরিচালিত এসব অভিযানে সীমান্তের বিভিন্ন স্থান থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত ও পরিবহনের সময় ৪ হাজার ৪০১ কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, এসব সার মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করছে ৩৪ বিজিবি। বিশেষ করে দেশের কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রিত সার যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারে পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও বিভিন্ন চোরাচালানপথে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিজিবির আভিযানিক দল নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত এক মাসের বেশি সময়ে চারটি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “সার দেশের কৃষি উৎপাদনের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। এর অবৈধ পাচার দেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “সারসহ সব ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অবৈধ পাচার রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রিত পণ্য, বিশেষ করে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, বাইশফাঁড়ী, চাকঢালা ও রেজুপাড়া সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে ৩৪ বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা ৪ হাজার ৪০১ কেজি সার পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
